IMG_20170212_201713

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ  পীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং দৌলতপুর ইউনিয়নের কেউটগাঁও গ্রামের মহেন্দ্র’র পুত্র রিপন । জন্মের তিন মাস পর থেকেই গুটি ও গাছের শিকড়ের মত সমস্যা দেখা দেয় হাত পায়ে । স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করেও এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব হয়নি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে রিপনের হাতে পায়ে এ সমস্যা দিন দিন বাড়তেই থাকে  । পরবর্তীতে ভাল চিকিৎসার জন্য বৃক্ষ শিশু রিপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারী , পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সমিতি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বৃক্ষ শিশু রিপনের পাশে এসে দাঁড়ায় । সমিতির পক্ষ থেকে রিপনের হাতে আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে টাকা তুলে দেওয়া হয় এবং আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আহ্বায়ক মহদয় অভিমত ব্যক্ত করেন ।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সমিতি আহ্বায়ক ডাঃ চৌধুরী মোহাম্মাদ আনোয়ার , পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সমিতি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি লুতফর রহমান মহদয় এবং আরও অনেকে ।

IMG_20170212_201726

উল্লেখ্য, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বৃক্ষ শিশু রিপনের বিষয়ে সর্বপ্রথম সাংবাদিক আমিনুর রহমান হৃদয় প্রত্রিকায় একটি নিউজ করেন । যার মাধ্যমে বৃক্ষ শিশু রিপনের বিষয়ে সবাই জানতে পারে । পরবর্তীতে সাংবাদিক ফজলুল বারী মহদয় রিপনের বিষয়ে অনেক বেশি প্রচারণা চালান । যার ফলে অনেকে রিপনের চিকিৎসার জন্য তাঁর (রিপনের) পাশে এসে দাঁড়ায় ।

বর্তমানে ৭ বছর বয়সের রিপনকে কোন ভাবেই সুস্থ করতে পারেননি স্থানীয় চিকিৎসকরা। স্থানীয় চিকিৎসকরা ঢাকায় বা বিদেশে রিপনের উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও পেশায় জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত বাবা মহেন্দ্র রায় ও অন্যের বাড়ীতে ঝিঁ এর কাজ করা মা গোলাপী’র পক্ষে কোন ভাবেই শিশু পুত্র রিপনের উন্নত চিকিৎসা করানো হয়ে উঠছিল নাহ । মহেন্দ্র রায় এর তিন সন্তানের মধ্যে রিপন সবার ছোট। বর্তমাসে কেটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেীণর ছাত্র রিপন ।

 

22272-11082016095307-unnamed

 

গত ১৬ আগস্ট বুধবার ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. খয়রুল কবিরের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড বসে। এই রোগ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু টাকার অভাবে স্কুল পড়ুয়া দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এই শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যেতে পারছিলো না তার পরিবার। পরে রিপনের চিকিৎসার বিষয়ে উদ্যোগ নেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি শিশুটির বাবার হাতে ২০ হাজার টাকা এবং ঢাকা যাওয়ার পরিবহন ব্যবস্থা করেন।

ঢাকায় আসার পর প্রথম দিকে চিকিৎসা শুরু হয় কয়েকদফা অপারেশান হয় রিপনের । কিন্তু আসতে আসতে টাকার অভাবে চিকিৎসা কার্যকর্ম ধীর হয়ে যায়। তারপর পীরগঞ্জের সমাজসেবা মূলক সংগঠন ” ipositive ” এগিয়ে আসে । পরবর্তীতে আরও অনেক সংগঠন এবং ব্যাক্তিগত ভাবে অনেকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসে ।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে আপনার পছন্দের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বন্ধুদের সাথে খবরটি শেয়ার করুন

...+