আহসান মঞ্জিলের সামনেই যত্রতত্র পার্কিং, এলোপাতাড়ি ফেলে রাখা হয়েছে রিকশা-ভ্যান; প্রবেশপথের দুই পাশে উন্মুক্ত কনটেইনার, সেখান থেকে উপচে পড়ছে ময়লা-আবর্জনা।

জাদুঘরে রূপান্তরিত ঢাকার এই নবাববাড়ি সংলগ্ন ড্রেনগুলো সারাক্ষণ খোলাই থাকে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সময়মত সেগুলো পরিষ্কার না করায় এলাকাটি সারাক্ষণ ডুবে থাকে নোংরা পানির দু্র্গন্ধে।

 

সামনের ফুটপাত দখল করে বানানো অস্থায়ী দোকান, গ্যারেজ আর ময়লার ছড়াছড়ি বিদেশি দর্শনার্থীদেরও বিব্রত করে।

 

Public-sufferings-Ahsan--01

 

কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব বিষয় নিয়ে বারবার ‘ধর্না’ দিয়েও কাজ হয়নি; তাই এখন ‘অসহায় অপেক্ষা’ ছাড়া তাদের করার কিছুই নেই।

বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে ঢাকার নবাব পরিবারের বসবাসের জন্য ১৮৭২ সালে নির্মাণ শেষ করা হয় আহসান মঞ্জিলের। বহু ঘটনা ও দলিলের সাক্ষী এই ভবনের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৯২ সালে জাতীয় জাদুঘরের ওপর ন্যস্ত করে। একই সালে ভবনটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

Public-sufferings-Ahsan--03

 

 

 

বুধবার আহসান মঞ্জিল গিয়ে ভবন সংশ্লিষ্ট ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বানানো অসংখ্য ফলের দোকান আর গ্যারেজ দেখা যায়।

প্রধান ফটক রুদ্ধ হয়ে আছে কয়েক ডজন খাবারের দোকানে। আহসান মঞ্জিলের দুইপাশ, সামনের ফুটপাত, এমনকি রাস্তাও দোকানের দখলে।

পণ্যবাহী ট্রাক আর গজিয়ে ওঠা গ্যারেজের চাপে জাদুঘর সংলগ্ন আহসানউল্লাহ রোডে সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে।

বাইরের মত মঞ্জিল প্রাঙ্গণের পরিস্থিতিও করুণ। যত্রতত্র পড়ে আছে চিপস, জুসসহ বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট। মাঠজুড়ে সর্বত্র ধুলা আর আবর্জনার ‘সগর্ব উপস্থাপনা’।

এসব কারণে দর্শনার্থীদের অনেককেই চরম বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা দুষছেন কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলাকে’।

“প্রবেশের একটি মাত্র গেইট। সেখানে এইভাবে ময়লা পড়ে থাকলে, দুর্গন্ধ থাকলে এখানে আসতে কার ভাল লাগবে,” বলেন যাত্রাবাড়ি থেকে আসা ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ।

বাচ্চাকে ইতিহাস দেখাতে নিয়ে এসে আফসোসই হচ্ছে তার।

“যানজট, ফুটপাত দখল, রাস্তায় পার্কিং- এসব কর্তৃপক্ষ চাইলেই দূর করতে পারে। দর্শনার্থীদের স্বার্থেই সিটি করপোরেশনের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।”

এ ধরনের স্থানগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার দাবি জানান তিনি।

 

Public-sufferings-Ahsan--09

 

“বাচ্চাকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। বলেছি, বিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এ ভবন থেকে এসেছে। ঐতিহাসিক একটি স্থান, দেখতেও ভালো লাগে। কিন্তু ঢুকতে গিয়েই চরম বিরক্তি এসে যায়।”

মহানগর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাহমিনা জামান বললেন, এই অবস্থা চললে বিদেশিরা এ জাদুঘর দেখতে এসে বাংলাদেশ সম্পর্কে ‘বাজে ধারণা’ পাবে।

“মেইন গেটের সামনে রিকশা, ভ্যান আর মালবাহী গাড়িগুলো পার্ক করা থাকে। চারদিকে ময়লা আবর্জনা। বিদেশি অনেক দর্শনার্থীও তো আসে, কর্তৃপক্ষের অন্তত এ বিষয়গুলোতো দেখা উচিত,” ক্ষোভের সঙ্গে বলেন তিনি।

দর্শনার্থীদের এ ক্ষোভ ‘যুক্তিযুক্ত’ বলে মনে করে আহসান মঞ্জিল কর্তৃপক্ষও। এজন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হওয়ার কথা জানালেন দুই কর্মকর্তা।

Public-sufferings-Ahsan-Mon

 

“পুরান ঢাকা এমনই এক জায়গা, একদিকে তাদের উঠানো হয় আরেকদিকে তারা বসে পড়ে।”

এজন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে আহসান মঞ্জিলের তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন মালিক জানান।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশ কিছু ব্যবস্থাও নিলেও রিকশা-গাড়ির পার্কিং বন্ধ করা যাচ্ছে না।

“প্রধান ফটকের সামনে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলো তুলে দিলেও পরে তারা ফের বসে পড়ছে।”

বাইরের ময়লার কনটেইনার দুটি নিয়েও ‘অসহায়ত্বের’ কথা জানালেন তিনি।

“এটা সিটি করপোরেশনের ব্যাপার। আমরা এ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি, পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তারা এখন কিছুটা সচেতন। আগে তো ৭/৮ মাসেও একবার ময়লার গাড়ি আসত না, এখন আসে।”

মঞ্জিল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ময়লা সরাতে পারছে না বলেও জানান তিনি।

“আমরা ময়লাটা কোথায় ফেলব? নদীতে ফেলতে পারব না, পরিবেশ দূষিত হবে। আর আমাদের জনবল তো এই ময়লা মাথায় করে নিয়ে যাবে না।”

আহসান মঞ্জিলের ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ ঠিক করতে সিটি করপোরেশনকেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মন্তব‌্য করেন তিনি।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে আপনার পছন্দের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বন্ধুদের সাথে খবরটি শেয়ার করুন

...+