মাহমুদুর রহমান মান্নার সংবর্ধনা সভায় বক্তারা
মাহমুদুর রহমান মান্নার সংবর্ধনা সভায় বক্তারা

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির একক মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। কারামুক্ত নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তারা।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের আয়োজনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাতটি রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ঐক্যের কথা আসছে, এক্ষেত্রে মাহমুদুর রহমান মান্না ভালো সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারের অবসান চাইলে, গণতন্ত্র চাইলে সব বিরোধী দলের এক হওয়ার প্রয়োজন আছে।’
মান্নাকে কারাগারে রাখার সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘২২ মাসে যে জামিন দাও, দুই দিনে সেই জামিন দিতে পার না কেন? মামলা দাখিল করার পরপর জামিন দিতে পার না কেন? বিনা বিচারে আটকে রাখবে কেন?’
জনগণের শক্তি ছাড়া এই সরকারকে হটানোর কোনও সুযোগ নেই মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘জনগণই কেবল তাদের গণতন্ত্র শেখাতে পারে, তাদের গণতন্ত্রের লক্ষ্যে পরিচালিত করতে পারে। এজন্য জনগণের ঐক্য দরকার।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলে গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে। আর ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে।’
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি কিছু করতে পারেন না, সংবিধানের এ ধারার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কথা বাইরে কিছু হবে না।’ সার্চ কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নাম প্রস্তাব করলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত নাম অনুসারেই ইসি গঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাসদ (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘মান্না জামিনে বেরিয়ে আসার পরও সরকার তাকে ভয় পায়। এ কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হলেও তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়।’ ‘ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট কিংবা জাতীয় ফ্রন্ট’— যে নামেই হোক, মান্নার সংবর্ধনার অনুষ্ঠান থেকেই তৃতীয় শক্তির রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানান রব।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ম্যাগনাকার্টা প্রকাশ করুন। জনগণের কাছে গিয়ে বলুন, কেন তাদের জন্য এ ম্যাগনাকার্টা দরকার।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্যে আবদ্ধ। এখন তা-ও হয় না। অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে মান্না আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, এটা তার জন্য কাল হয়েছিল। কোনও মামলা হয় নাই, চার্জশিট হয় নাই। বিনা বিচারে কারাগারে রেখে তার জীবন থেকে ২২ মাস কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
সংবর্ধনার জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি যা-ই করেছি, ষড়যন্ত্র করিনি। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। নিজেকে আমি এত বড় রাজনৈতিক নেতা মনে করি না।’ তবে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার থাকলে তৃতীয় পক্ষের একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। সেক্ষেত্রে ‘উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক আকাশ’ থাকলে তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সরকার গঠন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন মান্না।
সংগঠনের উপদেষ্টা এস এম আকরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রমুখ।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে আপনার পছন্দের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বন্ধুদের সাথে খবরটি শেয়ার করুন

...+