chief-justiceদেশে ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন বলে উল্লেখ করে এসব মামলার দায়িত্ব ঘাড়ে নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

তিনি বলেছেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭১(২) ধারা অনুসারে সাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। আমাদের দেশে পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে যতোটা পারদর্শী, সাক্ষী উপস্থিতির ক্ষেত্রে ততোটা পারদর্শী নয়’।

‘তাই আমি আজকে এ সম্মেলনে আমার বিচারকদের নির্দেশনা দিচ্ছি, আমরা আর ৩০ লাখ মামলার দায়িত্ব ঘাড়ে নিতে পারবো না। আপনারা প্রসেস ইস্যু করবেন। তারপর ওয়ারেন্ট ইস্যু করবেন। সাক্ষী না এলে আপনারা মামলা ইয়ো (নিষ্পত্তি/খালাস) করে দেবেন। আমরা আর দায়িত্ব নিতে পারবো না’।

আজ শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৬’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দুই দিনব্যাপী বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বিচার বিভাগীয় তথ্য বাতায়ন’ এরও উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি, সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, অ্যার্টনি জেনারেল, জেলা পর্যায়ের সকল স্তরের বিচারকরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘দুর্নীতি দেশের উন্নয়নের প্রায় ৪০ শতাংশ ধ্বংস করে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা কেবলমাত্র বিচার বিভাগই তৈরি করেন। দেশের গত ২/৩ বছরে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তার পিছনে বিচার বিভাগের অবদান অনস্বীকার্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছেন বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতির মামলা থেকে শুরু করে, স্বর্ণ চোরাচালান সব ধরনের মামলায় কোনো রকম ছাড় দেননি’।

‘ইনকাম ট্যাক্সসহ রেভিনিউ সংশ্লিষ্ট যতো মামলা ছিল, সবগুলোই উচ্চ আদালত থেকে রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশাল অবদান রেখেছেন বিচার বিভাগ। কখনও নিম্ন আদালত থেকে দুর্নীতি বা চোরাচালানির মামলার জামিন হলেও সেগুলো বাতিল করেছেন উচ্চ আদালত। এভাবেই বিচার বিভাগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সব সময় অবদান রেখে আসছেন’।

তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ-বিভাগ বা সংস্থার সমালোচনা করছি না। রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। শুধু সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, রাষ্ট্রের বিভাগগুলোও এ প্রতিযোগিতার বাইরে নেই। কেবলমাত্র বিচার বিভাগই এর ব্যতিক্রম। যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকেন, তাদের মধ্যে এ আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বেশি মাত্রায় প্রতীয়মান হয়। কিন্তু বিচার বিভাগ এ প্রতিযোগিতায় কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি এবং করবেনও না’।

‘বরং, আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি, রাষ্ট্রের বিভাগ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শাসনতন্ত্র আমাদের ওপর যতোটুকু দায়িত্ব এবং ক্ষমতা অর্পণ করেছে, আমরা শুধু ততটুকুই করবো। আমি আশা করবো, রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানও বিচার বিভাগকে সেভাবেই সহযোগিতা করবে’।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে আপনার পছন্দের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বন্ধুদের সাথে খবরটি শেয়ার করুন

...+